প্রকাশিত:
গতকাল

বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। আর একক অঞ্চল হিসেবে পোশাক রপ্তানি হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে। দেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশ ইউরোপে রপ্তানি হয়ে থাকে।
পোশাকশিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট।
কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় ডাইং ও ফিনিশিং ইউনিটগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারছে না।
দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ এক বছরে প্রায় ২০-২৫% বেড়ে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান বাজার ইউরোপ এবং আমেরিকা।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে পশ্চিমা দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। ফলে সেসব দেশের ভোক্তারা পোশাক কেনার বাজেট কমিয়ে দিয়েছেন। বিদেশি বড় ব্র্যান্ডগুলো আগের তুলনায় কম অর্ডার দিচ্ছে, যা অনেক ছোট ও মাঝারি কারখানাকে বন্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
পোশাক খাতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগী দেশ ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে।এ চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে এ শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে।বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ লাভ করবে। ২০২৯ সালের পর বাংলাদেশ আর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না। ইইউ-এর সঙ্গে নতুন চুক্তি না করলে বাংলাদেশের রপ্তানিতে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। ফলে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে তার দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারাবে। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের পোশাক খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানার উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ বিদেশি ক্রেতাদের মনে আস্থার সংকট তৈরি করছে। অনেক বায়ার এখন বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ভিয়েতনাম, ভারত বা কম্বোডিয়ার দিকে ঝুঁকছেন। সময়মতো পণ্য সরবরাহ (On-time Delivery) নিশ্চিত করতে না পারা বর্তমানে বড় একটি ঝুঁকি।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘ইউরোপ আমাদের সর্ববৃহৎ বাজার। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশ ইউরোপে রপ্তানি হয়। ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন হলে তাদের বর্তমান শুল্ক শূন্য হয়ে যাবে। এতে তাদের সক্ষমতা অনেক বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘ভারত কটনের ওপর যে সাপোর্ট দেয়, সেটা অনেক বেশি। সে ক্ষেত্রে ওরা এই জায়গায় এগিয়ে যাবে। ওদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন তাঁরা ৩০-৪০ বিলিয়ন পর্যন্ত টার্গেট করবেন। ইউরোপের বাজার প্রায় ২০০-২৫০ বিলিয়নের ওপরে। তাদের বাজার বাড়ানোর এই শেয়ারটা আমাদের সবার থেকে কমবেশি নেবে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল সাধারণ পোশাকে সীমাবদ্ধ না থেকে ‘হাই ভ্যালু’ বা দামি পোশাক (যেমন: জ্যাকেট, অন্তর্বাস, স্পোর্টসওয়্যার) তৈরিতে মনোযোগ দিতে হবে। এছাড়া সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং নতুন নতুন বাজার (যেমন: জাপান, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া) খোঁজা এখন সময়ের দাবি।