প্রকাশিত:
গতকাল

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের মতো সমান শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানের জন্য শুল্কের হার ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করার পর, ইসলামাবাদ এটি কমিয়ে ১৫-১৬ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান টুডের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল গত চার দিন ধরে ওয়াশিংটনে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করছেন।
পাকিস্তান মনে করছে, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ ও ভারত তৈরি পোশাক এবং আইটি খাতে যেভাবে মার্কিন বাজার দখল করে রেখেছে, সেই তুলনায় পাকিস্তান শুল্ক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ইসলামাবাদের প্রধান যুক্তিগুলো হলো:
তৈরি পোশাক খাতে প্রতিযোগিতা: বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে অনেক ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা বা বিশেষ ছাড় পায়। পাকিস্তানও তৈরি পোশাক বা টেক্সটাইল খাতে অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও উচ্চ শুল্কের কারণে মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
ভারত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কৌশলগত বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার পায়। পাকিস্তানও এখন একই ধরনের ‘ট্রেড স্ট্যাটাস’ বা বাণিজ্যিক মর্যাদা দাবি করছে।
পাকিস্তানের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করতে রপ্তানি আয় বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। এজন্য মার্কিন বাজারের সহজ প্রবেশাধিকারকে তারা লাইফলাইন হিসেবে দেখছে।
পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসন যদি পাকিস্তানকে বাংলাদেশ বা ভারতের মতো নীতিগত সহায়তা দেয়, তবে আগামী দুই বছরে পাকিস্তানের রপ্তানি আয় ২০% বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে স্থগিত থাকা জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স (GSP) সুবিধাগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭.৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পাকিস্তান রপ্তানি করেছে ৫.৮ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি করেছে ১.৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দাবি পূরণ হওয়া পাকিস্তানের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। এর কারণগুলো হলো:
১. শ্রম আইন ও মানবাধিকার: বাংলাদেশ ও ভারতকে বিভিন্ন সময়ে শ্রম আইন সংস্কারের যে শর্ত দেওয়া হয়, পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও সেই একই কড়াকড়ি রয়েছে।
২. ভূ-রাজনীতি: ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক যতটা নিবিড়, পাকিস্তানের সাথে বর্তমানে ওয়াশিংটনের দূরত্ব ততটাই স্পষ্ট।
৩. নিরাপত্তা ইস্যু: আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংশয় এখনো কাটেনি, যা বাণিজ্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
পাকিস্তান সরকার চাইছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ (FTA) বা অন্ততপক্ষে একটি দীর্ঘমেয়াদী অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য কাঠামো। ইসলামাবাদ মনে করে, দক্ষিণ এশিয়ায় কেবল বাংলাদেশ ও ভারতকে সুবিধা দিলে আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট হবে। এখন দেখার বিষয়, বাইডেন বা তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানের এই আবেদনে কতটা সাড়া দেয়।