প্রকাশিত:
গতকাল

গতকাল মঙ্গলবার এ ঘোষণা দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার বিচার বিষয়ক মন্ত্রী হরসানা নানায়াক্কারা। পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়র সময় তিনি বলেছেন, “জনগণ যখন টেলিভিশনে পার্লামেন্টে এমপিদের বিতর্ক এবং বক্তব্য দেখে, তখন তারা মনে করে যে এমপিরা পেনশন পাওয়ার জন্য উপযুক্ত নন।”
শ্রীলঙ্কার আইন অনুযায়ী, একজন এমপি মাত্র ৫ বছর দায়িত্ব পালন করলেই আজীবন বড় অংকের পেনশন পাওয়ার অধিকারী হতেন। এর পাশাপাশি তারা বিনামূল্যে গাড়ি, জ্বালানি এবং আবাসন সুবিধাও ভোগ করতেন। নতুন আদেশে পেনশনের পাশাপাশি এই অতিরিক্ত সুবিধাগুলোর ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ এই সিদ্ধান্তকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, "অবশেষে এমন একজনকে পাওয়া গেছে যিনি নিজের দলের বা শ্রেণির সুবিধা না দেখে দেশের কথা ভাবছেন।" বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এই পদক্ষেপকে 'নতুন শ্রীলঙ্কা' গড়ার পথে প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে।
মঙ্গলবার পার্লামেন্টে যখন বিলটি তোলা হয়, তখন সেটির বিরোধিতা করেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিরোধীদলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা। এ ব্যাপারে পার্লামেন্টের বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, “এই বিল আসলে আইনপ্রণেতাদের দুর্নীতি করার বৈধতাপত্র। পেনশন আইনপ্রণেতাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। যদি এটি বাতিল হয়ে যায়, তাহলে তারা দ্বিধাহীনভাবে দুর্নীতি করা শুরু করবেন।” সূত্র : এনডিটিভি
শ্রীলঙ্কার এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও এক ধরনের নৈতিক চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে যেখানে সাবেক এমপিদের পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পেছনে বড় অংকের বাজেট ব্যয় হয়, সেখানে দিশানায়েকের এই পদক্ষেপ একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করতে পারে।
শ্রীলঙ্কার এই সংস্কার কেবল একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক বার্তাও বটে। এটি প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র যদি সংকটে থাকে, তবে ত্যাগের শুরুটা হওয়া উচিত নীতিনির্ধারকদের ঘর থেকেই।