প্রকাশিত:
গতকাল

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হাঙ্গেরি সফরে গিয়ে রাজধানী বুদাপেস্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভিক্টর অর্বানের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রুবিও।
রুবিও বলেন, “আমেরিকায় আসতে পারা কোনো জন্মগত বা সাংবিধানিক অধিকার নয়। এটি মার্কিন সরকারের একটি সিদ্ধান্ত।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি কোনো ভিসাধারী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বসে দেশটির স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার ভিসা বাতিল করা হবে। তার মতে, “যদি আমাদের কাছে কাউকে ভিসা দেওয়ার ক্ষমতা থাকে, তবে সেই ভিসা কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতাও আমাদের আছে।” সন্ত্রাসবাদ সমর্থনকারী বা উগ্রপন্থী আদর্শ প্রচারকারী ব্যক্তিদের জন্য ভিসা নীতি আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
২০২৬ সালের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির অংশ হিসেবে প্রায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং সাময়িকভাবে স্থগিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রুবিওর নেতৃত্বাধীন স্টেট ডিপার্টমেন্ট মনে করছে:
অনেক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে। নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই বা ‘ভ্যাটিং’ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী না করা পর্যন্ত ভিসা প্রদান বন্ধ রাখা হতে পারে।
তিনি আরও জানান, যদি কোনো আবেদনকারীর বিষয়ে জানা যায় যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত, সেক্ষেত্রে তাকে ভিসা দেওয়া হবে না।
রুবিওর এই কঠোর অবস্থান কেবল অভিবাসীদের জন্য নয়, বরং শিক্ষার্থী (F-1) এবং পর্যটক ভিসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বিশেষ করে যারা মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে এসে ফিলিস্তিনপন্থী বা ইসরায়েলবিরোধী উগ্র বিক্ষোভে জড়িত হচ্ছেন, তাদের ভিসা বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। রুবিওর মতে, অতিথিরা যদি গৃহস্বামীর (যুক্তরাষ্ট্র) ঘরের নিয়ম না মানেন, তবে তাদের থাকার কোনো অধিকার নেই।
মানবাধিকার কর্মী ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রুবিওর এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকরা মনে করেন, দেশের ভেতরের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এমন কঠোর সিদ্ধান্ত সময়ের দাবি।
মার্কো রুবিওর এই মন্তব্য মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিরই প্রতিফলন। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা প্রত্যাশীদের আরও বেশি চ্যালেঞ্জ ও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।