প্রকাশিত:
গতকাল

ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-৩’ মিশনে চারজন নভোচারী চন্দ্রযানে চড়ে চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবেন এবং অত্যন্ত কাছ থেকে উপগ্রহটিকে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। নাসা জানিয়েছে, প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারলেও বর্তমানে আগামী ৬ মার্চ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অ্যাপোলো মিশনের লক্ষ্য ছিল কেবল চাঁদে পৌঁছানো এবং নমুনা সংগ্রহ করা। কিন্তু ‘আর্টেমিস’ মিশনের লক্ষ্য অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী:
চাঁদের কক্ষপথে ‘গেটওয়ে’ (Gateway) নামক একটি স্পেস স্টেশন তৈরি করা হবে, যা অনেকটা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের মতো কাজ করবে।
এবার নভোচারীরা নামবেন চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এখানকার স্থায়ী ছায়াযুক্ত গর্তগুলোতে বরফ আকারে পানি রয়েছে, যা ভবিষ্যতে অক্সিজেন ও জ্বালানি তৈরিতে সহায়ক হবে।
চাঁদের এই মিশনকে নাসা মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর রিহার্সাল বা ‘টেস্ট বেড’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
এই অভিযানের অন্যতম আকর্ষণ হলো দূরত্বের রেকর্ড। চাঁদের দূরবর্তী পাশ অতিক্রম করার সময় নভোচারীরা অ্যাপোলো-১৩ মিশনের গড়া দূরত্বের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দূরবর্তী মহাকাশ ভ্রমণকারী হিসেবে নিজেদের নাম লেখাতে পারেন। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এটিই হবে চাঁদের কক্ষপথে মানুষের প্রথম পদযাত্রা।
এই মিশনে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশ্বের এ যাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট এসএলএস (Space Launch System)। এছাড়া নভোচারীদের চাঁদের মাটিতে অবতরণ করানোর জন্য এলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স (SpaceX)-এর তৈরি বিশেষ ‘স্টারশিপ’ ল্যান্ডার ব্যবহার করা হবে।
নাসার এই ঘোষণার পাশাপাশি চীন ও রাশিয়াও তাদের নিজস্ব চন্দ্রাভিযান এবং চাঁদে ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে মহাকাশ গবেষণায় এখন এক নতুন ধরনের ‘স্পেস রেস’ বা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, যার সুফল পুরো মানবজাতি পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সবকিছু ঠিক থাকলে, ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি হবে মানব সভ্যতার জন্য এক বিশাল লাফ, যা আমাদের আরও গভীর মহাকাশে বিচরণ করার পথ খুলে দেবে।
চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করায় মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে এই মিশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে নাসা।