প্রকাশিত:
গতকাল

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে অবৈধভাবে পরিচালিত সকল মসজিদ ও অননুমোদিত উপাসনালয় বন্ধে অভিযান শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গ্রিস সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা ধর্মীয় স্থাপনাগুলো সিলগালা করা এবং এগুলোর সঙ্গে জড়িত বিদেশী নাগরিকদের সরাসরি নিজ দেশে বিতাড়ন করা।
গ্রিসের শিক্ষা ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এথেন্সের অ্যাজিওস নিকোলাওস এলাকায় একটি বেজমেন্টে পরিচালিত মসজিদ বন্ধ করার সময় আইনগত জটিলতা সামনে আসে। প্রশাসনের দাবি, নতুন পাশ হওয়া আইন অনুযায়ী, যেকোনো ধর্মীয় উপাসনালয় পরিচালনার জন্য অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং স্থাপত্য নকশার বৈধ অনুমতি থাকা বাধ্যতামূলক।
তদন্তে দেখা যায়, ওই মসজিদটি কোনো প্রকার সরকারি অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘ দিন ধরে পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে দায়িত্বরত বাংলাদেশি নাগরিকের (ইমাম) বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া জনসমাবেশ ও ধর্মীয় সভা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়। গ্রিসের একটি আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করার পর প্রশাসন তার ‘রেসিডেন্স পারমিট’ বা থাকার অনুমতি বাতিল করে দেয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাকে গ্রিস ত্যাগের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে এথেন্সে বসবাসরত হাজার হাজার মুসলিম অভিবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সামনে পবিত্র রমজান মাস থাকায় প্রবাসীরা তাদের ধর্মীয় আচার পালন নিয়ে শঙ্কিত।
এথেন্সের ভোটানিকস এলাকায় সরকারের একমাত্র অনুমোদিত কেন্দ্রীয় মসজিদটি অনেক দূর হওয়ায় সাধারণ অভিবাসীদের পক্ষে সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করা কঠিন।এই সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে অভিবাসীরা বিভিন্ন ফ্ল্যাট বা বেজমেন্ট ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী মসজিদ পরিচালনা করে আসছিলেন, যা এখন বন্ধের মুখে।
বর্তমানে এথেন্স ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ৬০টির মতো অবৈধ উপাসনালয় চালু রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে এই সংখ্যা একশরও বেশি ছিল বলে জানা যায়। এই স্থাপনাগুলোর বেশিরভাগই বেজমেন্ট, গ্যারেজ কিংবা পরিত্যক্ত গুদামে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি বা অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। গ্রিস কর্তৃপক্ষ এই অভিযানের মাধ্যমে একটি কঠোর বার্তা দিতে চাইছে যে, লাইসেন্সবিহীন কোনো ধর্মীয় কার্যক্রম আর সহ্য করা হবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্তে প্রবাসী ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এর ফলে সামান্য আইনি বিচ্যুতিতেও দেশ ছাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
গ্রিসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা জানিয়েছেন, হুট করে মসজিদগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় এবং একজন ইমামকে বিতাড়নের নির্দেশে তারা মর্মাহত। তারা এই বিষয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে, এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং গ্রিস কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিসের রক্ষণশীল সরকারের এই কঠোর অবস্থান ইউরোপের অন্যান্য দেশের অভিবাসন বিরোধী রাজনীতিরই একটি প্রতিফলন। তবে রমজানের আগে এমন সিদ্ধান্তে ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।