প্রকাশিত:
গতকাল
.jpg&w=3840&q=75)
মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক গতিপথে এটি একটি নির্ধারক পরিবর্তনের সূচনা। পাকিস্তানের অনলাইন দ্য নেশনের সম্পাদকীয়তে এ কথা বলা হয়েছে।
এই নির্বাচন রাজনৈতিক প্রভাবও পুনর্বণ্টন করেছে। জামায়াতে ইসলামী শেখ হাসিনার আমলে প্রান্তিক হয়ে পড়েছিল। তারা নতুন প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি, যে ছাত্রগোষ্ঠীগুলোর আন্দোলনে এই রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে, তারাও এখন বিরোধী আসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
পাকিস্তান কেন বাংলাদেশের সাথে বর্তমান সময়ে ঘনিষ্ঠ হতে চায়, তার পেছনে বেশ কিছু কৌশলগত কারণ রয়েছে।
ভারতের প্রভাব বলয় থেকে বাংলাদেশের সরে আসার সম্ভাবনাকে পাকিস্তান নিজেদের জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা (Strategic Advantage) হিসেবে দেখছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দুটি বৃহৎ মুসলিম প্রধান দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য চালু হলে উভয় দেশের অর্থনীতিই লাভবান হবে। বিশেষ করে পাট, তুলা ও তৈরি পোশাক শিল্পে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।পাকিস্তান দীর্ঘ দিন ধরে সার্ককে (SAARC) পুনরায় সক্রিয় করতে চাচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্বের ইতিবাচক মনোভাব ইসলামাবাদকে আশাবাদী করেছে।
১৯৭১-এর নৃশংসতার জন্য পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি বাংলাদেশের জনমানসে আজও অত্যন্ত শক্তিশালী। ইসলামাবাদ এই বিষয়টি কীভাবে মোকাবিলা করবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ভারতের সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তান খুব দ্রুত এগোতে চাইলে তা এই অঞ্চলের ত্রিদেশীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের মন্ত্রীদের উপস্থিতি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত। ঢাকা শেষ পর্যন্ত যে রাজনৈতিক পথই অনুসরণ করুক না কেন, ইসলামাবাদের উচিত ঐতিহাসিকভাবে সংযুক্ত এই প্রতিবেশীর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বজায় রাখা, যাতে দক্ষিণ এশিয়ায় আরও স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলা যায়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের উচিত হবে না বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা। বরং একটি ‘গঠনমূলক সম্পৃক্ততা’ বা 'Constructive Engagement'-এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করলেই দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ সংরক্ষিত হবে।
‘নতুন বাংলাদেশ’ নিজের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সবার সাথে বন্ধুত্বের নীতিতে অটল। পাকিস্তান যদি অতীতকে সম্মান জানিয়ে বর্তমানের এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে, তবে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এটি একটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।