প্রকাশিত:
গতকাল

জাতীয়ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ সাত মাস ধরে৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটেরসঙ্গে আলোচনার পর গত বছরের১৭ অক্টোবর ঢাকার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয় ‘জুলাই জাতীয়সনদ, ২০২৫’।
সেদিন২৫টি রাজনৈতিক দল সনদে সইকরলেও ব্যতিক্রম ছিল জাতীয় নাগরিকপার্টি—এনসিপি। দলটি অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতছিল এবং সনদে স্বাক্ষরওকরেনি।
সনদেসই না করার সিদ্ধান্তেরব্যাখ্যা দিতে সংবাদ সম্মেলনেএনসিপি তিনটি শর্ত দেয়:
প্রথমত, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশেরখসড়া স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগেই প্রকাশ করতেহবে এবং তা জারিকরবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
দ্বিতীয়ত, গণভোটে জনগণ সনদের পক্ষেরায় দিলে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের কোনো কার্যকারিতা থাকবেনা।
তৃতীয়ত, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে নির্বাচিত সংসদ গাঠনিক ক্ষমতাবলেসংবিধান সংস্কার করবে।
পরবর্তীতে১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ‘জুলাইজাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়।
ওই আদেশের অধীনেই চলতি বছরের ১২ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয়সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে৪৮টি প্রস্তাবের ওপর গণভোট। গণভোটে ভোটপড়ে ৬০ দশমিক ২৬শতাংশ। ‘হ্যাঁ’ ভোট স্পষ্টভাবে বিজয়ীহয়।
নির্বাচনেরবেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি পায় ২০৯টি, জামায়াতেইসলামী ৬৮টি, এনসিপি ৬টি এবং স্বতন্ত্রপ্রার্থীরা জয়ী হন ৭টিআসনে।
নতুনসরকার গঠনের ঠিক আগমুহূর্তে এনসিপিরজুলাই সনদে স্বাক্ষরের উদ্যোগরাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরিকরেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবলআনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং একটিকৌশলগত বার্তা।
বিশ্লেষকদেরমতে, প্রধান উপদেষ্টার চাপ, জাতীয় ঐকমত্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার প্রয়োজনীয়তা এবং সংবিধান সংস্কারপ্রশ্নে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করতেই এনসিপি এই সময়কে বেছেনিয়েছে।
একদিকেদলটি জাতীয় ঐকমত্য প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হতেচায় না, অন্যদিকে নতুনসরকারের ওপর রাজনৈতিক ওসাংবিধানিক দাবির চাপ বজায় রাখতেওসচেষ্ট।
শপথেরআগমুহূর্তে জুলাই সনদ ঘিরে এনসিপিরএই তৎপরতা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।