প্রকাশিত:
গতকাল

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য করে জ্যোতি প্রশ্ন তোলেন, “এত জায়গা-পদ নিয়ে কেন এই কাড়াকাড়ি ও সংঘর্ষ? আমরা কি সত্যিই জনগণের সেবা আর দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করছি?” তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সাধারণ মানুষের তুষ্টির জন্য বিশাল কোনো প্রকল্পের প্রয়োজন নেই, কেবল মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করাই যথেষ্ট।
চিকিৎসাসেবার দুরবস্থা নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে জ্যোতি লেখেন, “একটি ১৫০০ শয্যার হাসপাতালে যদি ৫ হাজারের বেশি রোগী থাকে, অথচ নার্স ও ডাক্তার থাকে হাতে গোনা—তাহলে মানুষ কীভাবে চিকিৎসা পাবে?” করোনাত্তোর সময়েও চিকিৎসা খাতের এই জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
দেশের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা তুলে ধরে জাতীয় দলের এই অধিনায়ক বলেন, “দূরপাল্লার কিছু সড়ক ছাড়া বেশিরভাগ রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। সেখানে বয়স্ক, অসুস্থ বা গর্ভবতী নারীদের দুর্ভোগ কল্পনাতীত।” তিনি নতুন সরকারকে সড়ক সংস্কারে দ্রুত নজর দেওয়ার অনুরোধ জানান।
পোস্টের শেষ দিকে নীতিনির্ধারকদের প্রতি কিছুটা আক্ষেপ ঝরিয়ে তিনি লেখেন, “আমরা দেশের মানুষ খুব সহজেই খুশি হয়ে যাই। আমাদের জন্য বিশাল কিছু করার দরকার নেই—শুধু প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ঠিক করে দিন। বাকিটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলবে না।”
জ্যোতির এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। সাধারণ নেটিজেনরা তাঁর এই সাহসী ও বাস্তবসম্মত বক্তব্যের প্রশংসা করছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, একজন জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ যখন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়ে কথা বলেন, তখন তা নীতিনির্ধারকদের কানে পৌঁছানো সহজ হয়।
মঙ্গলবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর বুধবারই এমন জনবান্ধব দাবি উত্থাপন করে জ্যোতি বুঝিয়ে দিলেন, মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি দেশের মানুষের জীবনমান নিয়েও তিনি সমান সচেতন।